Post Image

ল্যাবরেটরি (laboratory) - তিনসঙ্গী


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম আধুনিক ছোটগল্প 'ল্যাবরেটরি' (১৯৪০) তাঁর শেষ জীবনের সংকলন 'তিনসঙ্গী'র অন্তর্ভুক্ত। এটি সোহিনী নামের এক দৃঢ়চরিত্রা নারীর মনস্তাত্ত্বিক কাহিনীর মধ্য দিয়ে প্রখর বাস্তবতা ও নারীসত্তার নতুন রূপ ফুটিয়ে তোলে [২, ৩]। স্বামী নন্দকিশোরের বিজ্ঞান সাধনা ও ল্যাবরেটরি রক্ষার জন্য সোহিনী নিজের সতীত্ব ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে সংগ্রাম করে, তাই গল্পের মূল উপজীব্য।

গল্পের মূল বিষয় ও বৈশিষ্ট্য:

প্রেক্ষাপট ও প্রকাশ: গল্পটি আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় (১৩৪৭ বঙ্গাব্দ) প্রথম প্রকাশিত হয় এবং পরে 'তিনসঙ্গী' গ্রন্থে সংকলিত হয় ।

প্রধান চরিত্র: সোহিনী (প্রধান), নন্দকিশোর (সোহিনীর স্বামী ও বিজ্ঞানী), নীলা (মেয়ে), রেবা (ছেলের বউ)।

আধুনিকতা: রবীন্দ্রনাথ এই গল্পে সনাতন নারীর ধারণার বাইরে এসে সোহিনীর মধ্যে এক নতুন, স্বাধীন ও বাস্তববাদী সত্তা তৈরি করেছেন।

মূলভাব: স্বামী নন্দকিশোরের মৃত্যুর পরও তার গবেষণাগার (ল্যাবরেটরি) বাঁচিয়ে রাখতে সোহিনী যেভাবে শাশুড়ি ও সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তা চরম আত্মত্যাগের প্রতীক।

পরিনতি: সোহিনী তার মেয়ে নীলার বিয়ে রেবার ভাই শশাঙ্কের সাথে দিয়ে ল্যাবরেটরি ও বিজ্ঞানসাধনাকে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে, যা একটি ভিন্নধর্মী বাস্তববাদী উপসংহার।

এই গল্পটি আধুনিক রিয়ালিজম ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের এক অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে বাংলা সাহিত্যে স্বীকৃত।

Chapters

EiAmi.com