বকফুল গাছ (Sesbania): পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য, বিস্তৃতি ও ব্যবহার
অন্যান্য নাম
অগথ, অগস্তি, অগস্ত্য, দীর্ঘফলক, বকফুল, বক্রপুষ্প, মুনিদ্রুম, শীঘ্রপুষ্প, সুরপ্রিয়।
🌿 উদ্ভিদের পরিচিতি
বকফুল বা সেসবানিয়া (Sesbania) গণের একটি নরমকাঠযুক্ত দ্রুতবর্ধনশীল বৃক্ষ। এটি ফ্যাবালেস (Fabales) বর্গভুক্ত উদ্ভিদ। ধারণা করা হয়, প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক যুগে এই গণের উদ্ভিদের উৎপত্তি ঘটে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন উষ্ণ ও উপউষ্ণ অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে।
বর্তমানে ফিলিপাইন, ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, উত্তর অস্ট্রেলিয়া এবং ক্যারাবিয়ান অঞ্চলে এ প্রজাতির গাছ পাওয়া যায়।
🌱 গাছের গঠন ও বৈশিষ্ট্য
এই গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণত ১০ থেকে ২৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
- শাখাগুলো কিছুটা ছড়ানো প্রকৃতির
- দীর্ঘ পত্রদণ্ডের দুই পাশে ছোট ছোট পাতা সজ্জিত
- পাতার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫–৩০ সেন্টিমিটার (৬–১২ ইঞ্চি)
🌺 ফুলের বৈশিষ্ট্য
প্রজাতি অনুযায়ী ফুলের রঙ সাদা, গোলাপী অথবা লালচে হতে পারে।
- ফুলে সাধারণত ৬টি পাপড়ি থাকে
- সব পাপড়ির আকার সমান নয়
- সারা বছরই ফুল ফোটে
- দক্ষিণ ভারত, মিয়ানমার ও গঙ্গা তীরবর্তী এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য চাষ করা হয়
🌾 ফল ও ব্যবহার
বকফুল গাছের ফল শুঁটির ভেতরে বিন্যস্ত থাকে।
- শুঁটি কিছুটা বাঁকানো ও লম্বাটে
- দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ফুট
- ফুল ও ফল উভয়ই খাদ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর পাতা, বাকল, ফুল ও শিকড় বিভিন্ন রোগে ব্যবহৃত হয়। এটি পুষ্টিকর ও ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত।
❓ FAQ
প্রশ্ন ১: বকফুল গাছ কোথায় বেশি দেখা যায়?
উত্তর: এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ উষ্ণ অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
প্রশ্ন ২: বকফুল কি খাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, এর ফুল ও ফল অনেক স্থানে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৩: এই গাছ কত দ্রুত বৃদ্ধি পায়?
উত্তর: এটি দ্রুতবর্ধনশীল গাছ এবং অল্প সময়ে বেশ লম্বা হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৪: বকফুলের ঔষধি গুণ আছে কি?
উত্তর: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর বিভিন্ন অংশ ব্যবহৃত হয়।