অঙ্কোল (Ankol) গাছ: পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য ও ভেষজ গুণ
সমার্থক নাম
অঁকল, অঙ্কোট, অঙ্কোল, আঁকোড়, বাঘ আঁকড়া
ইংরেজি নাম: Ankol
বৈজ্ঞানিক নাম: Alangium lamarckii
গোত্র: Alangiaceae
🌳 উদ্ভিদের পরিচিতি
অঙ্কোল একটি মাঝারি আকারের ছায়াপ্রিয় বৃক্ষ, যা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে বিস্তৃত। বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, অযোধ্যা অঞ্চল, মধ্য ও দক্ষিণ ভারতে এই গাছ স্বাভাবিকভাবে জন্মাতে দেখা যায়। শুষ্ক ও অপেক্ষাকৃত উষ্ণ পরিবেশে এটি ভালো বৃদ্ধি পায়, তাই দক্ষিণ ও মধ্য ভারতে এর উপস্থিতি বেশি।
🌱 গাছের গঠন ও বৈশিষ্ট্য
এই গাছ সাধারণত ১০ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়।
- বাকল ধূসর রঙের এবং প্রায় আধা ইঞ্চি পুরু
- শাখায় ছোট কাঁটা থাকে
- পাতা ৩–৬ ইঞ্চি লম্বা
- পাতার গোড়া সরু, মাঝখান চওড়া এবং অগ্রভাগ সরু
- কিনারা করাতের দাঁতের মতো খাঁজযুক্ত
- পত্রদণ্ডের দুই পাশে পাতা জোড়ায় জোড়ায় বিন্যস্ত
🌸 ফুল ও ফল
অঙ্কোল গাছের ফুল সুগন্ধযুক্ত এবং আকর্ষণীয়।
- প্রতি ফুলে ৫–১০টি পাপড়ি থাকে
- পুংকেশরের সংখ্যা প্রায় ২০–৩০টি
- ফল লাল বা কালচে বর্ণের
- ফলের বাইরের অংশ শক্ত এবং সূক্ষ্ম রোমযুক্ত
- ফলের শাঁসে সামান্য আঁসটে গন্ধ থাকে
এই গাছ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
🌿 ভেষজ ব্যবহার
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় অঙ্কোল গাছের ফল, মূল ও বাকল ব্যবহৃত হয়।
- ফল কৃমিনাশক ও পেটের সমস্যায় উপকারী
- কিছু চর্মরোগ ও রক্তক্ষরণে ব্যবহৃত হয়
- যক্ষ্মা চিকিৎসায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহার করা হয়
- মূল কুকুরের কামড়ের ক্ষত সারাতে প্রয়োগ করা হয়
❓ FAQ
প্রশ্ন ১: অঙ্কোল গাছ কোথায় বেশি জন্মে?
উত্তর: এটি ভারতীয় উপমহাদেশের শুষ্ক ও উষ্ণ অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
প্রশ্ন ২: অঙ্কোলের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Alangium lamarckii।
প্রশ্ন ৩: এই গাছের কোন অংশ ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: ফল, মূল ও বাকল ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৪: অঙ্কোল গাছ কীভাবে বংশবিস্তার করে?
উত্তর: এটি মূলত বীজের মাধ্যমে জন্মায়।