অঞ্জন বৃক্ষ: পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য, বিস্তৃতি ও ব্যবহার
অঞ্জন একটি ছোট আকারের চিরসবুজ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যা মেলাস্টোমাটেসি (Melastomataceae) গোত্রভুক্ত। বাংলায় এটি অঞ্জন বা বম্বে অঞ্জন নামে পরিচিত, আর সংস্কৃত ভাষায় একে বলা হয় অঞ্জনী। এর বৈজ্ঞানিক নাম Memecylon edule। অঞ্জন গণের প্রায় ১০–১২টি প্রজাতি পাওয়া যায়।
🌍 বিস্তৃতি ও আবাসস্থল
এই উদ্ভিদের আদি নিবাস দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর কিছু অঞ্চল। এছাড়া মিয়ানমার ও মালয় অঞ্চলেও এর উপস্থিতি দেখা যায়। সাধারণত পাহাড়ি ও অপেক্ষাকৃত শুষ্ক মাটিতে এরা ভালোভাবে জন্মে।
🌱 গাছের গঠন ও বৈশিষ্ট্য
অঞ্জন গাছ সাধারণত আকারে ছোট এবং ঘন সবুজ পাতায় আচ্ছাদিত।
- পাতা প্রায় ৩–৩.৫ ইঞ্চি লম্বা
- প্রস্থ প্রায় ১.৫ ইঞ্চি
- পাতা গাঢ় সবুজ ও চামড়ার মতো শক্ত
🌸 ফুল ও ফল
বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে অঞ্জন গাছে ফুল ফোটে।
- ফুল বেগুনি রঙের
- গুচ্ছাকারে বিন্যস্ত
- এপ্রিল থেকে জুন মাসে ফুল ফোটে
- জুন–জুলাই মাসে ফল ধরে
ফল আকারে ছোট (প্রায় ০.২৫ ইঞ্চি)। কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পরিপক্ব হলে প্রথমে বেগুনি, পরে কালো রঙ ধারণ করে।
🌿 ব্যবহার ও ভেষজ গুণ
- গাছের বাকল সবুজাভ ও পাতলা
- ফল অলঙ্কার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
- কাঠ হালকা আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য
- পাতা, বাকল ও কাঠে গ্লুকোসাইড, রেজিন, আঠা ও মেলিক অ্যাসিডের উপস্থিতি রয়েছে
- নির্যাস থেকে হলুদ রঙ প্রস্তুত করা হয়
- ঐতিহ্যগত চিকিৎসায় পাতা ও মূল আমাশয় নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়
- কিছু প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই গাছের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য
❓ FAQ
প্রশ্ন ১: অঞ্জন গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Memecylon edule।
প্রশ্ন ২: অঞ্জন গাছ কোথায় বেশি জন্মে?
উত্তর: দক্ষিণ ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল এবং কিছু দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এলাকায়।
প্রশ্ন ৩: অঞ্জনের ফুল কবে ফোটে?
উত্তর: সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন মাসে।
প্রশ্ন ৪: অঞ্জন গাছের কী ব্যবহার রয়েছে?
উত্তর: ভেষজ চিকিৎসা, রঙ প্রস্তুত এবং হালকা আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।