অতিবিষা (Aconitum heterophyllum) – পরিচিতি ও ব্যবহার
সংস্কৃত ও বাংলা নাম: অতিবিষা
বৈজ্ঞানিক নাম: Aconitum heterophyllum Wall.
পরিবার: Ranunculaceae
অতিবিষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি উদ্ভিদ, যা প্রধানত হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে জন্মে। শীতল ও শুষ্ক আবহাওয়ায় এই গাছ ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। সাধারণত এর উচ্চতা ১ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।
গাছটির কন্দজাত অংশ থেকে সূক্ষ্ম শিকড় বের হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এই শিকড়ই “অতিবিষা” নামে ব্যবহৃত হয়। কাণ্ড সোজা এবং ডালপালা কিছুটা চ্যাপ্টা প্রকৃতির। পাতাগুলো হৃদপিণ্ডের মতো আকৃতির, দৈর্ঘ্যে প্রায় ২–৪ ইঞ্চি। পাতার কিনারায় দাঁতের মতো খাঁজ দেখা যায়। ফুলে হালকা বেগুনি রঙের শিরা লক্ষ্য করা যায়, যা উদ্ভিদটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য প্রদান করে।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অতিবিষার তিনটি ভিন্ন রূপের কথা উল্লেখ রয়েছে—
১. শ্বেত (সাদা)
২. কৃষ্ণ (কালো)
৩. রক্তবর্ণ (লাল)
প্রাচীন ভেষজ চিকিৎসা মতে, অতিবিষার মূল জ্বর উপশমে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি হজমে সহায়তা করে এবং কিছু ক্ষেত্রে কাশি ও অজীর্ণ সমস্যায় উপকারী বলে বিবেচিত হয়। তবে যেহেতু Aconitum গণের উদ্ভিদে বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।
FAQ (প্রশ্নোত্তর)
১. অতিবিষা কোথায় জন্মে?
অতিবিষা প্রধানত হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে জন্মে।
২. অতিবিষার কোন অংশ ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
এর শিকড় বা মূল অংশ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
৩. অতিবিষার কত প্রকার রয়েছে?
আয়ুর্বেদ মতে তিন প্রকার— শ্বেত, কৃষ্ণ ও রক্তবর্ণ।
৪. অতিবিষা কী কী সমস্যায় ব্যবহৃত হয়?
প্রথাগতভাবে জ্বর, অজীর্ণ ও কাশির উপশমে ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।
৫. অতিবিষা ব্যবহার কি নিরাপদ?
এটি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রজাতিতে বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে।