কট্কটিয়া পাখি কী? কট্কটিয়া পাখির পরিচয়, বাসস্থান, খাদ্যাভ্যাস ও বিস্তারিত তথ্য
📌 Table of Contents (TOC)
- কট্কটিয়া পাখি কী?
- কট্কটিয়া পাখির বৈশিষ্ট্য
- কট্কটিয়া পাখির বাসস্থান
- খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ
- প্রজনন ও জীবনচক্র
- লোকজ নাম ও পরিচিতি
- সংরক্ষণ অবস্থা
- FAQ
🐦 কট্কটিয়া পাখি কী?
কট্কটিয়া পাখি বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে পরিচিত একটি ছোট আকারের পাখি। সাধারণত কাঠে ঠোকর দেওয়ার সময় “কট্ কট্” শব্দের মতো আওয়াজ করে বলেই এর নাম হয়েছে কট্কটিয়া। এটি মূলত কাঠঠোকরা জাতীয় পাখির একটি স্থানীয় নাম হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এদের দেখা যায়। গাছের কাণ্ডে ঠোকর মেরে খাবার সংগ্রহ করা এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
🔍 কট্কটিয়া পাখির বৈশিষ্ট্য
- আকারে ছোট থেকে মাঝারি
- তীক্ষ্ণ ও শক্ত ঠোঁট
- শক্তিশালী নখর
- গাছের কাণ্ডে লেগে থাকার ক্ষমতা
- ঠোকর দেওয়ার সময় স্পষ্ট শব্দ
অনেক প্রজাতির ক্ষেত্রে মাথায় লাল বা কালো রঙের দাগ দেখা যায়।
🌳 কট্কটিয়া পাখির বাসস্থান
এই পাখি সাধারণত—
- বনাঞ্চল
- গ্রামীণ গাছপালা
- ফলের বাগান
- বড় পুরোনো গাছের এলাকা
এদের বেশি দেখা যায়। গাছের ফাঁপা অংশে বাসা তৈরি করে।
🍽️ খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ
কট্কটিয়া পাখি মূলত কীটপতঙ্গভোজী। এদের খাদ্য তালিকায় থাকে—
- পোকামাকড়
- লার্ভা
- গাছের বাকলের নিচের কীট
- মাঝে মাঝে ফল
গাছের কাণ্ডে ঠোকর মেরে লুকিয়ে থাকা পোকা বের করে খায়।
🥚 প্রজনন ও জীবনচক্র
- গাছের কাণ্ডে গর্ত করে বাসা বানায়
- ৩–৫টি ডিম পাড়ে
- মা-বাবা উভয়েই ছানাদের দেখাশোনা করে
- কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ছানারা উড়তে শেখে
📛 লোকজ নাম ও পরিচিতি
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পাখিকে ভিন্ন নামে ডাকা হয়। “কট্কটিয়া” নামটি এসেছে এদের শব্দ থেকে। অনেক স্থানে একে কাঠঠোকরা নামেও চেনে।
🌱 সংরক্ষণ অবস্থা
বর্তমানে কট্কটিয়া পাখি ব্যাপকভাবে বিলুপ্ত নয়, তবে বন উজাড় ও পরিবেশ দূষণের কারণে বাসস্থান কমে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এদের টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
❓ FAQ
১. কট্কটিয়া পাখি কোন শ্রেণির পাখি?
এটি কাঠঠোকরা জাতীয় পাখির অন্তর্ভুক্ত।
২. কট্কটিয়া পাখি কী খায়?
মূলত পোকামাকড় ও গাছের বাকলের নিচের কীট খায়।
৩. কট্কটিয়া পাখি কোথায় বাসা বানায়?
গাছের কাণ্ডে গর্ত করে বাসা তৈরি করে।
৪. কট্কটিয়া পাখির নাম কেন এমন?
গাছে ঠোকর দেওয়ার সময় “কট্ কট্” শব্দ হয় বলে এ নাম।
৫. এটি কি বিপন্ন প্রজাতি?
বর্তমানে ব্যাপকভাবে বিপন্ন নয়, তবে বাসস্থান কমছে।