নোনা গাছ: স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং ঔষধি গুণ
নোনা (বৈজ্ঞানিক নাম: Annona reticulata) একটি ফলদায়ক গাছ যা Annonaceae গোত্রভুক্ত। এটি custard-apple, bullock's heart বা bull's heart নামেও পরিচিত। এর আদি নিবাস আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলে, তবে বর্তমানে এটি ভারত, বাংলাদেশ এবং মায়ানমারে ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়।
নোনা গাছের গড় উচ্চতা ৩০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে, এবং আমেরিকায় কিছু গাছ ৪০ ফুট পর্যন্ত বড় হতে দেখা যায়। এর গাছের বাকল ধূসর রঙের এবং কাঠ নরম। পাতা ৫-৮ ইঞ্চি লম্বা এবং ২ ইঞ্চি প্রস্থের, যার অগ্রভাগ সরু এবং বোঁটা ০.৫ ইঞ্চি লম্বা।
নোনা ফুল
এই গাছের ফুল একক বা একত্রে তিনটি ফুলে জন্মে এবং আকার ১ থেকে ৩ ইঞ্চি। ফুলের পাপড়ি সংখ্যা ৩টি, তবে পুংকেশর সংখ্যা অনেক। ফুলগুলো দেখতে লম্বাটে হয়ে থাকে। গাছটি মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে ফুল ফোটায় এবং আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ফল পাকে।
নোনা ফল
ফলগুলি গোলাকার, ২ থেকে ৪ ইঞ্চি ব্যাসের এবং শাঁসাল। ফলের বাইরের ত্বক শক্ত এবং খণ্ডে বিভক্ত, তবে আতার মতো ততটা স্পষ্ট নয়। ফলের ভিতরে কালচে বিচি থাকে, যা শাঁস দ্বারা আবৃত। ফলটি মিষ্টি এবং সুস্বাদু হয়ে থাকে, যা মানুষের পাশাপাশি পাখিরাও খেতে পছন্দ করে।
আয়ুর্বেদে নোনার ব্যবহার
ভারতীয় আয়ুর্বেদে নোনা গাছের বিভিন্ন গুণাগুণ উল্লেখ করা হয়েছে:
-
নোনা আমাশয় নিবারক এবং ক্রিমি ধ্বংসকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
-
বিচি বিষাক্ত, তবে স্বল্প মাত্রায় মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয়। গর্ভবতী নারীদের জন্য বিচির মলম ব্যবহারে গর্ভপাত হতে পারে।
-
পাতা ক্রিমিনাশক, যা শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে সাহায্য করে।
FAQ
-
নোনা গাছের বৈশিষ্ট্য কী?
নোনা গাছ ৩০-৪০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এর পাতা ৫-৮ ইঞ্চি লম্বা থাকে। এর ফল গোলাকার, মিষ্টি এবং সুস্বাদু। -
নোনা গাছের পাতা এবং বিচির উপকারিতা কী?
নোনার পাতা ক্রিমিনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং বিচি বিষাক্ত হলেও স্বল্প মাত্রায় মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয়। -
নোনা গাছ কোথায় পাওয়া যায়?
নোনা গাছ মূলত ভারত, বাংলাদেশ এবং মায়ানমারে পাওয়া যায় এবং এটি আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে।