Post Image

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কোন দুই ধরনের খাবার সবচেয়ে বেশি সীমিত করা উচিত?


ক্যানসার নিয়ে খাবারভিত্তিক নানা ভয় ছড়ালেও গবেষণাভিত্তিক তথ্য তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার। বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অ্যালকোহল—এই দুইটি খাদ্য/পানীয়-দল ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সবচেয়ে শক্তভাবে যুক্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসার গবেষণা সংস্থা IARC প্রক্রিয়াজাত মাংসকে মানুষের জন্য ক্যানসারজনক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, আর World Cancer Research Fund মানুষকে লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস সীমিত করতে এবং অ্যালকোহল কমাতে বা এড়িয়ে চলতে বলছে।

প্রক্রিয়াজাত মাংস বলতে সাধারণত বেকন, সসেজ, হটডগ, সালামি, হ্যাম, ডেলি মিট—এ ধরনের খাবার বোঝায়। এগুলো ধূমায়িত, লবণযুক্ত, কিউরড বা অন্যভাবে সংরক্ষিত হয়। WHO/IARC-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার সঙ্গে বিশেষ করে কোলোরেক্টাল ক্যানসার-এর সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে; কিছু গবেষণায় পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গেও সম্পর্কের ইঙ্গিত আছে।

অ্যালকোহল-এর ক্ষেত্রেও ঝুঁকির প্রমাণ শক্তিশালী। World Cancer Research Fund-এর ক্যানসার প্রতিরোধ সুপারিশে অ্যালকোহল সীমিত করতে বলা হয়েছে, আর বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূত্রে স্তন, কোলোরেক্টাল, খাদ্যনালি, লিভার, মুখ ও গলা—এ ধরনের কয়েকটি ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে অ্যালকোহলকে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি শুধু “অতিরিক্ত” খেলেই ক্ষতি করে—এমন নয়; ক্যানসার প্রতিরোধের দৃষ্টিতে যত কম, তত ভালো।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। “শুধু এই দুইটাই ক্যানসারের কারণ, বাকি কিছুই না”—এভাবে বলা ঠিক হবে না। কারণ World Cancer Research Fund-এর সামগ্রিক সুপারিশে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো, চিনি-যুক্ত পানীয় কমানো, বেশি সবজি-ফল-ডাল-শস্য খাওয়া—এসবকেও ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ক্যানসারের ঝুঁকি শুধু একটি খাবার নয়; পুরো জীবনযাত্রার সঙ্গেও জড়িত।

লাল মাংস নিয়েও আলাদা করে সতর্ক থাকার কারণ আছে। IARC লাল মাংসকে “সম্ভবত ক্যানসারজনক” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, আর WCRF বলছে লাল ও প্রক্রিয়াজাত—দুই ধরনের মাংসই কোলোরেক্টাল ক্যানসারের কারণের সঙ্গে যুক্ত। তাই একেবারে নিষিদ্ধ না হলেও পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

ভয়ের বিষয় হলো, অনেকেই মনে করেন শুধু “চিনি” বা “গ্লুটেন” বাদ দিলেই ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যাবে। কিন্তু শরীরের সব কোষই শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে, আর ক্যানসার প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। উদ্ভিদভিত্তিক খাবার—যেমন সবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম ও বীজ—ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপকারী উপাদান দেয়, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সুতরাং, বাস্তব কথা হলো—ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে আগে নজর দিন প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অ্যালকোহল-এ। এর পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান এড়িয়ে চলা, আর উদ্ভিদভিত্তিক খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভয় নয়, তথ্যভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসই এখানে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

FAQ

১) ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যুক্ত কোন দুই ধরনের খাবার?
সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ আছে প্রক্রিয়াজাত মাংসঅ্যালকোহল-এর ক্ষেত্রে।

২) প্রক্রিয়াজাত মাংস বলতে কী বোঝায়?
বেকন, সসেজ, হটডগ, হ্যাম, সালামি, ডেলি মিটের মতো সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত মাংসকে প্রক্রিয়াজাত মাংস বলা হয়।

৩) লাল মাংসও কি ঝুঁকিপূর্ণ?
হ্যাঁ, লাল মাংসকে IARC “সম্ভবত ক্যানসারজনক” বলেছে, তাই পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ রাখা ভালো।

৪) শুধু চিনি বাদ দিলেই কি ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে?
না। ক্যানসার প্রতিরোধে পুরো খাদ্যাভ্যাস, ওজন, ব্যায়াম, অ্যালকোহল, প্রক্রিয়াজাত খাবার—সবই গুরুত্বপূর্ণ।

৫) ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কী ধরনের খাবার বেশি খাওয়া উচিত?
সবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম ও বীজসমৃদ্ধ উদ্ভিদভিত্তিক খাবার বেশি খাওয়া উপকারী।

EiAmi.com