পাঠ ১: বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ | আমার বাংলা বই | বোর্ড বই সমাধান এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন
আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। এ দেশের মানুষের রয়েছে নানা রকম বৈচিত্র্য। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ বাংলায় কথা বলে। বাংলা ভাষা ছাড়াও এদেশে আরো কয়েকটি ভাষা রয়েছে। যেমন-চাকমা, মারমা, ককবরক, ওঁরাও, মান্দি, সাঁওতালি ইত্যাদি। সবাই নিজের মাতৃভাষায় কথা বলতে পছন্দ করে।
বাংলাভাষী মানুষেরা বাঙালি নামে পরিচিত। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এদের কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ মুরং, কেউ তঞ্চঙ্গ্যা। কেউ আবার অন্য জাতির। রাজশাহী, দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় সাঁওতাল ও রাজবংশীদের বসবাস। ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাস করে গারো সম্প্রদায়ের মানুষ। সিলেটে আছে মণিপুরি সম্প্রদায়।
মাতৃভাষার বৈচিত্র্যের পাশাপাশি এ দেশে রয়েছে ধর্মের বৈচিত্র্য। এদেশে প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায় হলো মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ আর খ্রিষ্টান। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা, বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমা আর খ্রিষ্টানদের বড়দিন। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। এগুলোর বাইরেও আরো কিছু উৎসব উদ্যাপন করা হয়। যেমন- পহেলা বৈশাখে উদ্যাপিত হয় বাংলা নববর্ষ। রাখাইনদের উৎসবের নাম সাংগ্রাই, আর চাকমাদের উৎসব বিজু।
বাংলাদেশে অনেক পেশার মানুষ আছে। যেমন-কৃষক, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি ইত্যাদি। মানুষ যে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে, সেই কাজকে তার পেশা বলে। ফসলের মাঠে কৃষক লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করেন। জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধরেন। কামার আগুন, হাঁপর আর হাতুড়ির সাহায্যে লোহার জিনিস তৈরি করেন।
কুমার নরম কাদামাটি নিয়ে চাকায় ঘুরিয়ে মাটির হাঁড়িকুড়ি তৈরি করেন। তাঁতি কাপড় বোনেন। এছাড়া বাংলাদেশের শহর ও গ্রামে আরো নানা পেশার মানুষ দেখা যায়। সব পেশার মানুষই পরিশ্রমী। তাদের শ্রম বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে।
বাংলাদেশের মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদেও বৈচিত্র্য আছে। পাজামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, শাড়ি-ব্লাউজ, সালোয়ার-কামিজ- আরো কত রকমের পোশাক যে আছে! ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের পোশাকেও বৈচিত্র্য দেখা যায়। চাকমাদের পোশাকের নাম পিনোন ও হাদি। মারমাদের পোশাকের নাম দেয়াহ। সাঁওতালরা পরে থাকে পাল্টি নামের একধরনের পোশাক। গারোদের পোশাকের নাম দকমান্দা।
এ দেশে নানা রকম যানবাহন দেখা যায়। নদীপথে নৌকা, লঞ্চ ও জাহাজ চলে। রাস্তায় চলে বাস, মোটর গাড়ি, রিকশা ও সাইকেল। রেললাইন ধরে চলে রেলগাড়ি। আকাশে ওড়ে উড়োজাহাজ। একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়া-আসা করার জন্য আমাদের বাহন লাগে।
বাংলাদেশের মানুষের চেহারা আর শারীরিক গঠনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। তবে যত রকম বৈচিত্র্যই থাকুক না কেন, সবাই বাংলাদেশকে ভালোবাসে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাই একসাথে কাজ করে।