চর্যাপদ কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক পদসমষ্টি। এর রচনাকাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, এটি আনুমানিক খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত। এই সময় বাংলা ভাষা সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা থেকে ধীরে ধীরে নিজস্ব রূপ লাভ করছিল।
চর্যাপদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এর ভাষা সরাসরি আধুনিক বাংলা নয়, আবার সম্পূর্ণ সংস্কৃত বা প্রাকৃতও নয়। এটি বাংলা ভাষার প্রাচীন রূপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই ভাষাবিজ্ঞানী, সাহিত্য গবেষক এবং ইতিহাসবিদদের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদকে “বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। BCS, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, বাংলা সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চর্যাপদ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
এই কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ পাঠকদের জন্য চর্যাপদের ইতিহাস, কবি, ভাষা ও সাহিত্যিক গুরুত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
Internal Link Suggestion:
→ [চর্যাপদ: ইতিহাস, কবি, ভাষা ও পরীক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি]
Table of Contents
- চর্যাপদ কী?
- চর্যাপদের আবিষ্কারের ইতিহাস
- চর্যাপদের রচনাকাল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
- চর্যাপদের কবি বা সিদ্ধাচার্যগণ
- চর্যাপদের ভাষাগত বৈশিষ্ট্য
- বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের গুরুত্ব
- পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- চর্যাপদ মনে রাখার সহজ কৌশল
- সাধারণ ভুল ধারণা
- Frequently Asked Questions (FAQ)
চর্যাপদ কী?
চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্যগ্রন্থ, যেখানে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকরা তাঁদের আধ্যাত্মিক সাধনা, জীবনদর্শন ও দার্শনিক চিন্তা গানের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
“চর্যা” শব্দের অর্থ হলো আচরণ, সাধনা বা অনুশীলন এবং “পদ” অর্থ হলো গান বা কবিতা। অর্থাৎ চর্যাপদ বলতে বোঝায় সাধনামূলক পদ বা গান।
এটি মূলত ধর্মীয় সাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এর মধ্যে তৎকালীন সমাজ, মানুষের জীবনযাপন, ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়।
চর্যাপদের পদগুলো সরাসরি অর্থে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে লেখা মনে হলেও এর মধ্যে রয়েছে গোপন আধ্যাত্মিক অর্থ। এই কারণে এর ভাষাকে বলা হয় সন্ধ্যাভাষা বা সান্ধ্যভাষা।
চর্যাপদের আবিষ্কারের ইতিহাস
চর্যাপদের অস্তিত্ব আধুনিক যুগে জানা যায় বিশ শতকের শুরুতে।
১৯০৭ সালে বিখ্যাত ভারতীয় পণ্ডিত ও গবেষক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। এই পাণ্ডুলিপির নাম ছিল:
“চর্যাচর্যবিনিশ্চয়”
এটি ছিল চর্যাপদের মূল সংকলন।
পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থের মাধ্যমে চর্যাপদ সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত হয়।
চর্যাপদ আবিষ্কার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আবিষ্কারক | হরপ্রসাদ শাস্ত্রী |
| আবিষ্কারের সাল | ১৯০৭ |
| আবিষ্কারের স্থান | নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার |
| পাণ্ডুলিপির নাম | চর্যাচর্যবিনিশ্চয় |
| প্রকাশের সাল | ১৯১৬ |
| প্রকাশিত গ্রন্থ | হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা |
চর্যাপদের রচনাকাল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
চর্যাপদের রচনাকাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে অধিকাংশ গবেষক মনে করেন, এর রচনাকাল আনুমানিক:
দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
এই সময় বাংলায় পাল রাজবংশের শাসন চলছিল। পাল যুগ ছিল বৌদ্ধ ধর্ম ও শিক্ষার বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়।
এই যুগে:
- বৌদ্ধ ধর্মের সহজিয়া মতবাদের বিকাশ ঘটে।
- নালন্দা ও বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাকেন্দ্র সক্রিয় ছিল।
- সংস্কৃতের পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষার বিকাশ শুরু হয়।
চর্যাপদ এই পরিবর্তনশীল ভাষা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
চর্যাপদের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
চর্যাপদ শুধু ধর্মীয় পদ নয়; এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাথমিক কাব্যিক প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. আধ্যাত্মিক ভাবধারা
চর্যাপদের মূল বিষয় হলো বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা। কবিরা আত্মজ্ঞান, মুক্তি ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির কথা বলেছেন।
২. প্রতীক ও রূপকের ব্যবহার
চর্যাপদের কবিরা সরাসরি তাঁদের বক্তব্য প্রকাশ করেননি। তাঁরা বিভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে গভীর অর্থ প্রকাশ করেছেন।
যেমন:
- নৌকা → মানব জীবন
- নদী → সংসার
- মাঝি → গুরু বা পথপ্রদর্শক
৩. সাধারণ জীবনের চিত্র
যদিও চর্যাপদ আধ্যাত্মিক সাহিত্য, তবুও এতে তৎকালীন সমাজের বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়।
যেমন:
- কৃষিকাজ
- নদী ও নৌকা
- পেশাজীবী মানুষ
- গ্রামীণ জীবন
চর্যাপদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে চর্যাপদের গুরুত্ব অনেক গভীর।
১. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন
চর্যাপদকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম লিখিত নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়।
এর মাধ্যমে বাংলা ভাষার প্রাচীন রূপ সম্পর্কে জানা যায়।
২. বাংলা ভাষার বিবর্তনের প্রমাণ
চর্যাপদের ভাষায় দেখা যায়:
- সংস্কৃতের প্রভাব
- প্রাকৃত ভাষার বৈশিষ্ট্য
- বাংলা ভাষার প্রাথমিক রূপ
এ কারণে ভাষাবিজ্ঞানীদের কাছে এটি অত্যন্ত মূল্যবান।
৩. সামাজিক ইতিহাসের উৎস
চর্যাপদ থেকে জানা যায়:
- তৎকালীন মানুষের জীবনধারা
- সামাজিক কাঠামো
- পেশা
- সংস্কৃতি
৪. বাঙালির সাহিত্যিক ঐতিহ্যের ভিত্তি
পরবর্তী বাংলা সাহিত্য যেমন:
- বৈষ্ণব পদাবলি
- মঙ্গলকাব্য
- আধুনিক বাংলা কবিতা
এসবের পূর্ববর্তী ভিত্তি হিসেবে চর্যাপদের ভূমিকা রয়েছে।
Internal Link Suggestion:
→ [বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ: আদি, মধ্য ও আধুনিক যুগের পূর্ণ আলোচনা]
চর্যাপদের কবি বা সিদ্ধাচার্যগণ
চর্যাপদের রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সাধক, যাদের সাধারণভাবে সিদ্ধাচার্য বলা হয়। তাঁরা ধর্মীয় সাধনা ও দার্শনিক চিন্তা পদ বা গানের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
চর্যাপদে মোট ২৩ জন কবির নাম পাওয়া যায়। তবে পাণ্ডুলিপিতে সব কবির সমান সংখ্যক পদ সংরক্ষিত নেই।
সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন:
১. কাহ্নপা (কৃষ্ণাচার্য)
কাহ্নপা চর্যাপদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর নামে সর্বাধিক সংখ্যক পদ পাওয়া যায়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কবির নাম | কাহ্নপা / কানহপা |
| পরিচয় | সিদ্ধাচার্য |
| বৈশিষ্ট্য | সর্বাধিক পদ রচয়িতা |
| ভাষা | সন্ধ্যাভাষা |
২. লুইপা
লুইপাকে চর্যাপদের অন্যতম প্রাচীন কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তাঁর পদে সহজিয়া দর্শন ও আধ্যাত্মিক চিন্তার প্রকাশ দেখা যায়।
৩. শবরপা
শবরপা ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধাচার্য। তাঁর পদে সাধারণ মানুষের জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত চিত্র পাওয়া যায়।
৪. ভুসুকুপা
ভুসুকুপার পদে দার্শনিক ভাবনা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির প্রকাশ রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ চর্যাপদ কবিদের তালিকা
| কবি | পরিচিতি | পরীক্ষায় গুরুত্ব |
|---|---|---|
| লুইপা | প্রাচীন সিদ্ধাচার্য | খুব গুরুত্বপূর্ণ |
| কাহ্নপা | সর্বাধিক পদ রচয়িতা | অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ |
| শবরপা | সিদ্ধাচার্য কবি | গুরুত্বপূর্ণ |
| ভুসুকুপা | দার্শনিক ভাবধারার কবি | গুরুত্বপূর্ণ |
| সরহপা | সহজিয়া সাধক | গুরুত্বপূর্ণ |
| ডোম্বীপা | সিদ্ধাচার্য | মাঝারি |
চর্যাপদের ভাষা: সন্ধ্যাভাষা কী?
চর্যাপদের ভাষা বাংলা ভাষার ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এই ভাষাকে বলা হয়:
সন্ধ্যাভাষা (Sandhya Language)
সন্ধ্যাভাষা হলো এমন একটি ভাষারীতি যেখানে শব্দের প্রকাশ্য অর্থের পাশাপাশি একটি গোপন বা আধ্যাত্মিক অর্থ থাকে।
সহজ ভাষায় বলা যায়:
চর্যাপদের কবিরা তাঁদের সাধনার গোপন বিষয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আড়াল করার জন্য প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করেছেন।
সন্ধ্যাভাষার বৈশিষ্ট্য
১. দ্বৈত অর্থ
একটি শব্দের দুটি অর্থ থাকতে পারে।
উদাহরণ:
| শব্দ | সাধারণ অর্থ | গোপন অর্থ |
|---|---|---|
| নৌকা | জলযান | সাধনার পথ |
| নদী | জলপ্রবাহ | সংসার |
| মাঝি | নৌকার চালক | গুরু |
২. প্রতীকী প্রকাশ
চর্যাপদের কবিরা সরাসরি ধর্মীয় তত্ত্ব প্রকাশ না করে প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
৩. সহজ ভাষার ব্যবহার
যদিও বিষয় ছিল গভীর, ভাষা ছিল সাধারণ মানুষের কাছাকাছি।
এ কারণে চর্যাপদ বাংলা ভাষার বিকাশ বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
চর্যাপদের ভাষাগত বৈশিষ্ট্য
চর্যাপদের ভাষায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়:
১. বাংলা ভাষার আদি রূপ
চর্যাপদের ভাষায় আধুনিক বাংলার কিছু প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।
যেমন:
- শব্দের গঠন
- ক্রিয়ার ব্যবহার
- বাক্য নির্মাণ
২. প্রাকৃত ও অপভ্রংশের প্রভাব
চর্যাপদের ভাষায় দেখা যায়:
- প্রাকৃত ভাষার বৈশিষ্ট্য
- অপভ্রংশ ভাষার রূপ
- সংস্কৃত শব্দের প্রভাব
৩. আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার
চর্যাপদে তৎকালীন বাংলার বিভিন্ন আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
চর্যাপদ ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্ক
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে সাধারণত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়:
| যুগ | সময়কাল | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| আদি যুগ | ৬৫০–১২০০ খ্রি. | চর্যাপদ |
| মধ্যযুগ | ১২০০–১৮০০ খ্রি. | বৈষ্ণব পদাবলি, মঙ্গলকাব্য |
| আধুনিক যুগ | ১৮০০–বর্তমান | আধুনিক সাহিত্য |
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের প্রধান নিদর্শন।
চর্যাপদ বনাম পরবর্তী বাংলা সাহিত্য
| বিষয় | চর্যাপদ | মধ্যযুগীয় সাহিত্য |
|---|---|---|
| সময়কাল | দশম–দ্বাদশ শতাব্দী | দ্বাদশ–অষ্টাদশ শতাব্দী |
| বিষয় | সাধনা ও দর্শন | ধর্মীয় কাহিনি ও ভক্তি |
| ভাষা | সন্ধ্যাভাষা | তুলনামূলক সহজ বাংলা |
| কবি | সিদ্ধাচার্য | বৈষ্ণব ও মঙ্গলকাব্যের কবি |
| উদ্দেশ্য | আধ্যাত্মিক শিক্ষা | ধর্মীয় ও সামাজিক শিক্ষা |
BCS ও পরীক্ষার জন্য চর্যাপদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
চর্যাপদ থেকে পরীক্ষায় সাধারণত কয়েক ধরনের প্রশ্ন আসে:
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন কী?
উত্তর: চর্যাপদ।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর: নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে।
প্রশ্ন: চর্যাপদের ভাষা কী?
উত্তর: সন্ধ্যাভাষা।
প্রশ্ন: চর্যাপদের কবিদের কী বলা হয়?
উত্তর: সিদ্ধাচার্য।
প্রশ্ন: চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?
উত্তর: কাহ্নপা।
চর্যাপদ মনে রাখার সহজ কৌশল
পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু স্মার্ট মেমোরি টেকনিক:
Trick 1: আবিষ্কার মনে রাখুন
“হরি নেপালে গিয়ে চর্যা পেলেন”
- হরি → হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- নেপাল → আবিষ্কারের স্থান
- চর্যা → চর্যাপদ
Trick 2: গুরুত্বপূর্ণ চার তথ্য
চ-হ-ক-স
চ = চর্যাপদ
হ = হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ক = কাহ্নপা
স = সন্ধ্যাভাষা
চর্যাপদ পড়ার সময় সাধারণ ভুল
ভুল ১: চর্যাপদকে শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ মনে করা
অনেকে মনে করেন এটি শুধু বৌদ্ধ ধর্মের বই। আসলে এটি বাংলা ভাষা, সমাজ ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক দলিল।
ভুল ২: চর্যাপদের ভাষাকে আধুনিক বাংলা ভাবা
চর্যাপদের ভাষা আধুনিক বাংলা নয়। এটি বাংলা ভাষার প্রাথমিক রূপ।
ভুল ৩: সব কবিকে একই সময়ের মনে করা
চর্যাপদের কবিরা বিভিন্ন সময়ে সাধনা করেছেন।
ভুল ৪: চর্যাপদের আবিষ্কার সাল ভুল লেখা
মনে রাখতে হবে:
- আবিষ্কার → ১৯০৭
- প্রকাশ → ১৯১৬
👉 আরও জানুন:
১. চর্যাপদের ইতিহাস: আবিষ্কার থেকে আধুনিক গবেষণা পর্যন্ত
২. চর্যাপদের কবি ও সিদ্ধাচার্যদের পরিচয়
৩. চর্যাপদের ভাষা: সন্ধ্যাভাষার সহজ ব্যাখ্যা
৪. চর্যাপদের গুরুত্বপূর্ণ পদ ও ব্যাখ্যা
৫. বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ: আদি থেকে আধুনিক যুগ
৬. BCS পরীক্ষায় চর্যাপদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
৭. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: জীবন ও সাহিত্যকর্ম
৮. বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তনের ইতিহাস
৯. বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের বৈশিষ্ট্য
১০. বৌদ্ধ সহজিয়া দর্শন ও চর্যাপদ
১১. চর্যাপদ MCQ প্রস্তুতি গাইড
১২. বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ তালিকা
Frequently Asked Questions (FAQ)
১. চর্যাপদ কী?
উত্তর:
চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্যগ্রন্থ। এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত আধ্যাত্মিক পদসমষ্টি, যেখানে সাধনা, দর্শন ও জীবনবোধ প্রকাশ পেয়েছে।
২. চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর:
১৯০৭ সালে পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন।
৩. চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর:
চর্যাপদ নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কৃত হয়।
৪. চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
উত্তর:
চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা বা সান্ধ্যভাষা বলা হয়।
৫. চর্যাপদের কবিদের কী বলা হয়?
উত্তর:
চর্যাপদের কবিদের সিদ্ধাচার্য বলা হয়।
৬. চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?
উত্তর:
সিদ্ধাচার্য কাহ্নপা (কানহপা) চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা।
৭. চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর:
চর্যাপদ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন এবং বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশের অন্যতম প্রধান প্রমাণ।
৮. চর্যাপদের রচনাকাল কত?
উত্তর:
গবেষকদের মতে চর্যাপদের রচনাকাল আনুমানিক দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী।
৯. চর্যাপদ কোন যুগের সাহিত্য?
উত্তর:
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের সাহিত্য।
১০. চর্যাপদ শুধু ধর্মীয় সাহিত্য নয় কেন?
উত্তর:
চর্যাপদে ধর্মীয় সাধনার পাশাপাশি তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি, পেশা, মানুষের জীবনযাপন ও ভাষার গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়। তাই এটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
Conclusion
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে একটি অমূল্য সম্পদ। এটি শুধু একটি প্রাচীন কাব্যগ্রন্থ নয়; বরং বাংলা ভাষার জন্ম, বিকাশ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
সিদ্ধাচার্যদের রচিত এই পদগুলোতে যেমন বৌদ্ধ সহজিয়া দর্শনের গভীরতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে তৎকালীন সমাজ ও মানুষের জীবনচিত্র। এর সন্ধ্যাভাষা, প্রতীকী প্রকাশ এবং আধ্যাত্মিক ভাবধারা বাংলা সাহিত্যের পরবর্তী বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
BCS, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এবং বাংলা সাহিত্য অধ্যয়নের জন্য চর্যাপদ একটি অপরিহার্য বিষয়। চর্যাপদের ইতিহাস, কবি, ভাষা ও বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে বুঝতে পারলে বাংলা সাহিত্যের পুরো ধারাবাহিকতা বোঝা সহজ হয়।
বাংলা সাহিত্যের শিকড় অনুসন্ধান করতে চাইলে চর্যাপদই হলো সেই প্রথম দরজা, যেখান থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য তার দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছে।